ভূল চিকিৎসায় ডক্টর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ছাত্রের মৃত্যু

- আপডেট সময় : ০২:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
অভিজিৎ, ডিএমআরসি’র Sci-K ব্যাচ ২৪-এর ছাত্র, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার প্লাটিলেট সংখ্যা ১,০৫,০০০ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল প্রথমে তার চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করে। পরে তাদের মত পরিবর্তন করে চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা চিকিৎসার সময়সীমা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অভিজিৎ খিচুনির শিকার হয়, যা হাসপাতালের কর্মীরা মাদক ব্যবহারের কারণে হয়েছে বলে দাবী করে। এরপর তার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়, কিন্তু পরে তাকে মুক্ত করা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। সে তার অভিভাবকদের সাথে কথা বলছিল ও খাওয়া-দাওয়া করছিল।
তার মৃত্যুর আগে সকাল ৮টার সময় সে অসুস্থ বোধ করছিল এবং অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ইচ্ছা প্রকাশ করে। দুপুরে ডাক্তাররা জানায়, তার হার্টবিট কমে গেছে এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হবে, যার জন্য ৫০,০০০ টাকা প্রয়োজন। তার আত্মীয়রা টাকা দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু পুরো দিন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সন্ধ্যায় ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে এবং তার বাবার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ডেথ সার্টিফিকেট পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলেও শেষমেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ নেয়।
এই ঘটনার পর অভিজিৎ-এর বন্ধু ও পরিবার ন্যায়বিচারের দাবীতে সোচ্চার হয়, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি ও প্রশাসনিক গাফিলতি স্পষ্ট করে। অবশেষে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০,০০০ টাকা প্রদানের প্রস্তাব তাদের দুঃখ ও হতাশা বাড়ায়।
অভিজিৎ হাওলাদার, এক উজ্জ্বল ছাত্র, যে বুেটে পড়ার স্বপ্ন দেখত এবং তার পরিবারের কষ্ট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। এই ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সংস্কারের দাবী উত্থাপন করেছে।
