ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিত্রনায়িকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই

চিত্রনায়িকা নিপুনকে জয়ী করতে হুমকি দেন শেখ সেলিম

মিহিরুল মিরাজ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন নিপুন আক্তার। চিত্রনায়িকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে ২০২২ সালে জল ঘোলা হয়েছে অনেক। সেবার সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রাথমিক ভোট গণনায় জয়ী হন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। কিন্তু ফলাফল মেনে নেননি সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী নিপুন। পরে আদালতের নির্দেশে শিল্পী সমিতির চেয়ারে বসেন এই চিত্রনায়িকা। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম নিপুনকে জয়ী করতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আসতে থাকে চাপ। নিপুনের সঙ্গে সেলিমের বিশেষ সম্পর্কের বিষয়টি অনেকে জানলেও ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি।

জানা যায়, সে বছর নির্বাচনের ফলাফলের রাতে ভোট গণনার শুরু থেকেই একের পর এক হুমকি পেতে থাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একপর্যায়ে জায়েদ খানের চেয়ে ভোটে পিছিয়ে পড়েন নিপুন। তখন একের পর এক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেন কমিশনারকে।

ওই ঘটনার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী পীরজাদা হারুন জানান, ২০২২ সালের নির্বাচনে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্বাচনে নিপুনকে জয়ী দেখাতে একজন ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ একের পর এক ফোন করতে থাকেন।

মুঠোফোনে ভয় দেখানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের অর্থের লোভও দেখানো হয় উল্লেখ করে হারুন বলেন, ‘ফোনে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে একটি জায়গায় যেতে বলা হয়, যেখানে অনেক টাকা রাখা ছিল। যখন রাজি হলাম না, তখন ফলাফল নিয়ে মামলা হলো। সেটা গেল কোর্টে। তখনও নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমাকে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য বানিয়ে নানা কাণ্ডে ছোট করা হলো, নিষিদ্ধ করা হলো এফডিসিতে।

শিল্পী সমিতির সেই নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ‘নির্বাচন কমিশনারদের একের পর এক ভয়ভীতি দেখিয়ে গালিগালাজ করা হয়। পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এমন লেভেল থেকে ফোন আসবে, ভাবতে পারিনি। নিপুনকে জয়ী করাতে আমাদের একেকজনকে ১৭ বার ফোন করেন শেখ সেলিম সাহেব। এটা আমাদের অবাক করেছিল।’

নিউজটি শেয়ার করুন

চিত্রনায়িকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই

চিত্রনায়িকা নিপুনকে জয়ী করতে হুমকি দেন শেখ সেলিম

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন নিপুন আক্তার। চিত্রনায়িকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে ২০২২ সালে জল ঘোলা হয়েছে অনেক। সেবার সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রাথমিক ভোট গণনায় জয়ী হন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। কিন্তু ফলাফল মেনে নেননি সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী নিপুন। পরে আদালতের নির্দেশে শিল্পী সমিতির চেয়ারে বসেন এই চিত্রনায়িকা। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম নিপুনকে জয়ী করতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আসতে থাকে চাপ। নিপুনের সঙ্গে সেলিমের বিশেষ সম্পর্কের বিষয়টি অনেকে জানলেও ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি।

জানা যায়, সে বছর নির্বাচনের ফলাফলের রাতে ভোট গণনার শুরু থেকেই একের পর এক হুমকি পেতে থাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একপর্যায়ে জায়েদ খানের চেয়ে ভোটে পিছিয়ে পড়েন নিপুন। তখন একের পর এক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেন কমিশনারকে।

ওই ঘটনার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী পীরজাদা হারুন জানান, ২০২২ সালের নির্বাচনে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। নির্বাচনে নিপুনকে জয়ী দেখাতে একজন ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ একের পর এক ফোন করতে থাকেন।

মুঠোফোনে ভয় দেখানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের অর্থের লোভও দেখানো হয় উল্লেখ করে হারুন বলেন, ‘ফোনে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে একটি জায়গায় যেতে বলা হয়, যেখানে অনেক টাকা রাখা ছিল। যখন রাজি হলাম না, তখন ফলাফল নিয়ে মামলা হলো। সেটা গেল কোর্টে। তখনও নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমাকে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য বানিয়ে নানা কাণ্ডে ছোট করা হলো, নিষিদ্ধ করা হলো এফডিসিতে।

শিল্পী সমিতির সেই নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ‘নির্বাচন কমিশনারদের একের পর এক ভয়ভীতি দেখিয়ে গালিগালাজ করা হয়। পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এমন লেভেল থেকে ফোন আসবে, ভাবতে পারিনি। নিপুনকে জয়ী করাতে আমাদের একেকজনকে ১৭ বার ফোন করেন শেখ সেলিম সাহেব। এটা আমাদের অবাক করেছিল।’